«

»

আগস্ট 25

ফাইন্যান্স ১০১ – অর্থবিজ্ঞান পরিচিতি: ক্লাস-২

এখানে কোর্সে নিবন্ধন করুন

কোর্স পরিচিতি দেখুন

 

ফাইন্যান্সের ক্ষেত্রগুলো: পর্ব-১ (ব্যক্তিগত ফাইন্যান্স/অর্থায়ন)

আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি ফাইন্যান্স ১০১ – অর্থবিজ্ঞান পরিচিতি কোর্সের দ্বিতীয় ক্লাসে। আগের লেকচারে আমরা ফাইন্যান্স বা অর্থবিজ্ঞান কী সে সম্পর্কে জেনেছিলাম। আশা করছি ফাইন্যান্স সম্পর্কে আপনাদের কিছু প্রাথমিক ধারণা গত ক্লাসে দিতে পেরেছি। আজকে আমরা দেখবো ফাইন্যান্সের ক্ষেত্রগুলো কি বা কোন কোন ক্ষেত্রে ফাইন্যান্সের ব্যবহার হয় এবং আমরা কিভাবে ফাইন্যান্সের ব্যবহারকে শ্রেণীবদ্ধ করতে পারি। আমরা ইতোমধ্যে জেনেছি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে, যেখানেই অর্থের/টাকাপয়সার সম্পৃক্ততা আছে বা আর্থিক সিদ্ধান্ত নিতে হয় – সেখানেই ফাইন্যান্সের ব্যবহার রয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে আমরা তিনটি ক্ষেত্রে ফাইন্যান্সের ব্যবহারকে সাজাতে পারি: ১. ব্যক্তিগত পর্যায়ে, ২. ব্যবসায়িক পর্যায়ে ও ৩. সরকারি পর্যায়ে।

ব্যক্তিগত ফাইন্যান্স/অর্থায়ন:

আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে অর্থের ব্যবহার কতটা ব্যাপক তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমাদের অর্থের প্রয়োজন হয়। কখনো এই অর্থের যোগান আসে অন্য কারো কাছ থেকে, যেমন আমাদের ছোট বেলায় আমাদের বাবা-মা আমাদের যাবতীয় আর্থিক প্রয়োজন মেটান। আবার একসময় আমরা নিজেরা আয় করি, নিজেদের জন্য এবং সেই সাথে ছেলেমেয়ে ও আমাদের ওপর যারা নির্ভরশীল তাদের জন্য। এখন চলুন দেখি ব্যক্তিগত পর্যায়ে আমরা অর্থ বা টাকা পয়সা নিয়ে কোন কোন কাজগুলো করি। ব্যক্তিগত পর্যায়ে আর্থিক কর্মকান্ডগুলোর মর্ধে আছে: আয়, ব্যয়, সঞ্চয়, বিনিয়োগ, ঋণ গ্রহন ও ঋণ প্রদান। আর এসব ক্ষেত্রেই আর্থিক পরিকল্পনা করতে হয় এবং সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

আমার কী আছে:

ব্যক্তিগত আর্থিক পরিকল্পনার প্রথম ধাপ হল নিজের আর্থিক অবস্থা নির্ণয় করা। একজন ব্যক্তির নীট আর্থিক অবস্থা হল, তার যাবতীয় সম্পদ থেকে যে পরিমান দায়দেনা আছে তার বিয়োগফল। একে ইংরেজিতে বলে Net Worth। প্রকৃতপক্ষে নীট আর্থিক অবস্থা হল একজন ব্যক্তির চূড়ান্ত হিসাব বা ব্যালান্সশিট। যে কোন আর্থিক সিদ্ধান্তের আগে নিজের আর্থিক অবস্থা নির্ণয় করা খুবই জরুরী, তাতে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সহজ হয় এবং মাঝ পথে পিছিযে আসতে হয় না।

একজন ব্যক্তির নীট আর্থিক অবস্থা সচরাচর ধনাত্মত বা পজিটিভই হয় – অর্থাৎ সে ব্যক্তির কাছে মোট যে সম্পদ আছে তা থেকে তার সব দায়দেনা পরিশোধ করলেও তার হাতে কিছু সম্পদ অবশিষ্ট থাকবে। তবে নীট আর্থিক অবস্থা বা Net Worth সবসময় পজিটিভ হবে এমন কোন কথা নেই। আমরা প্রায় সবাই ‘দেউলিয়া’ বা ‘Bankrupt’ শব্দটির সাথে পরিচিত। কোন ব্যক্তির দেউলিয়া বা Bankrupt হবার মানে হল, তার মোট সম্পদ থেকে তার দায়দেনার পরিমান বেশি। অর্থাৎ সে ব্যক্তির নীট আর্থিক অবস্থা ঋণাত্মক বা নেগেটিভ এবং তার সব সম্পদ দায়দেনা পরিশোধের কাজে লাগালেও সব দেনা শোধ করা যাবেনা। কোন ব্যক্তি এমন অবস্থায় পড়লে সে আদালতের মাধ্যমে নিজেকে দেউলিয়া ঘোষনা করতে পারে। এক্ষেত্রে ওই ব্যক্তির পাওনাদারেরা ক্ষতিগ্রস্থ হবে এবং তাদের পাওনার বিপরীতে কম অর্থ ফেরত পাবে। অন্যদিকে দেউলিয়া ঘোষিত হবার পর ওই ব্যক্তির নীট আর্থিক অবস্থা হবে শূণ্য বা ০। অর্থাৎ তার হাতে কোন সম্পদও থাকবে না এবং তার কাছে কারও পাওনাও থাকবেনা। এখানে দেউলিয়া ধারণাটির ব্যক্তি পর্যায়ের উদাহরণ দিলাম, তবে এটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য এবং তাত্ত্বিকভাবে একটি দেশের সরকারের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে।

ভবিষ্যৎ সবসময়ই অনিশ্চিত:

ব্যক্তিগত আর্থিক পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ হল অনিশ্চিত ভবিষ্যতের জন্য যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা। ভবিষ্যতের আর্থিক ঝুঁকি নানা ধরনের হতে পারে। স্বাস্থ্যগত সমস্যা, দুর্ঘটনা বা অসুস্থতা জনিত পঙ্গুত্ব, মৃত্যু, আর্থিক দেনা, সম্পদের ঝুঁকি ইত্যাদি নানা কারণে আমরা ভবিষ্যতে আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারি। এ ধরণের আর্থিক ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য কোন কোন ক্ষেত্রে আমরা ব্যক্তিগতভাবে ব্যবস্থা নিতে পারি, আবার কোন কোন ক্ষেত্রে বীমা করার মাধ্যমে এসব আর্থিক ঝুঁকি হ্রাস করতে পারি। তবে এলোমেলো ভাবে বীমা করলেই তা আমাদের জন্য লাভজনক হবে না। সঠিকভাবে আর্থিক অবস্থা নির্ণয়ের পর তার ওপর ভিত্তি করেই ঠিক করতে হবে কার জন্য কোন ধরণের বীমা উপযুক্ত হবে।

আয়করের চিন্তা:

আমাদের দেশে সরাসরি কর বা আয়কর দেবার প্রচলন কম; তবে দিন দিন এ হার বাড়ছে। উন্নত বিশ্বে নাগরিকদের জন্য আয়কর একটা বড় চিন্তা। আমাদের দেশে অল্প সংখ্যক মানুষ আয়কর দিলেও বর্তমানে সরকার বিভিন্নভাবে আয়করের আওতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। যেমন, এখনকার নিয়মে যাদের নামেই নতুন স্থাবর সম্পদ (জমিজমা, বাড়ি/ফ্লাট ইত্যাদি) বা ব্যক্তিগত গাড়ি কেনা হবে – তাদের সবাইকে আয়করের আওতায় আসতে হবে। এছাড়াও চাকরিজীবিদের একটা বড় অংশ এবং যারা বেশ কিছুদিন ধরে ব্যবসা করছেন তাদের নিয়মিত কর দিতে হয়। আমাদের দেশে সাধারণত আয়কর পেশাজীবিদের মাধ্যমেই সবাই কর দেয় এবং যারা কর দিচ্ছেন তারা তাদের আয়কর হিসাব সম্পর্কে সঠিকভাবে জানেন না। তবে এসব ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে আয়করজনিত আর্থিক জটিলতায় পড়ার সম্ভাবনা থাকে। সবাই চায় আয়করের পরিমান যেন কম হয়। আয়কর দুইভাবে কম দেয়া যায়:

১. আয়কর না দিয়ে বা আয়কর ফাঁকি দিয়ে (ইংরেজিতে বলে Tax evasion), – এটি আইনের দৃষ্টিতে একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ এবং এটা করলে যে কেউ নানা ধরণের আর্থিক ও আইনী সমস্যায় পড়তে পারেন।

২. আয়কর এড়িয়ে গিয়ে যাকে ইংরেজিতে বলে Tax avoidance এবং এটি কোন অপরাধ নয়। ব্যাপারটা এমন যে, যেই রাস্তা দিয়ে হাটলে আপনাকে কর দিতে হবে আপনি সেই রাস্তা দিয়ে না হেটে অন্য রাস্তা দিয়ে হাটলেন। আয়করের পরিমান কমানোর আরো একটি উপায় হচ্ছে আয়করের ছাড় বা রিবেটের সুবিধা নেয়া। যেমন আপনি যদি আপনার আয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ সরকার নির্ধারিত কিছু কিছু খাতে বিনিয়োগ করেন তাতে আয়করের ওপর নির্দিষ্ট পরিমান ছাড় পাবেন। এভাবে আমরা সঠিকভাবে কর দিয়েও আয়করের পরিমান কমাতে পারি এবং ভবিষ্যতের আয়কর সংক্রান্ত ঝামেলা থেকে দূরে থাকতে পারি।

কেন এবং কিভাবে সঞ্চয় করবো বা কোথায় বিনিয়োগ করবো:

আমরা সবাই কমবেশি সঞ্চয় করি – সেটা হতে পারে কোন স্থাবর সম্পদ কেনার জন্য, হতে পারে জীবনের কোন বড় উপলক্ষের জন্য (বিয়ে, বিদেশে যাত্রা, পড়াশোনা ইত্যাদি), হতে পারে ভবিষ্যৎ জীবনের আয় ঘটতি মেটাতে বা হতে পারে অন্য কিছু। এক্ষেত্রে প্রথম বিবেচ্য বিষয় হল – আমাদের কোন নির্দিষ্ট কারণে কী পরিমান অর্থ লাগবে সেটা নির্ধারণ এবং আমরা নিজস্ব আয়ে কি সেটা একত্রিত করতে পারবো না বাইরের উৎস থেকে অর্থের সংস্থান করতে হবে। বাইরে থেকে অর্থসংস্থান করতে গেলে (যেমন ঋণ নিতে গেলে) তার খরচ কেমন হবে সেটাও গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে হবে। সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয় আমরা কিভাবে সঞ্চয় করবো এবং কত সময়ের জন্য করবো, সঞ্চয়টির ভবিষ্যৎ সুরক্ষার জন্য কি করণীয় ইত্যাদি। আমরা যদি নিজের কাছেই টাকা রেখে দেই তবে মূল্যস্ফীতির কল্যানে তার ক্রয়ক্ষমতা দিন দিন কমতে থাকবে। মানে আমি আজকে ১০০ টাকা দিয়ে যে জিনিষটা কিনতে পারবো একবছর পর জিনিষটার দাম বেড়ে গেলে (যেটা খুবই স্বাভাবিক একটা ব্যাপার) সেই ১০০ টাকার কেনার ক্ষমতা মূল্যস্ফীতির কারণে কমে যাবে। বিকল্প হিসেবে আমরা ব্যাংক হিসাবে টাকা জমা রাখতে পারি (যাতে মুনাফার হার খুবই কম থাকে) বা FDR করতে পারি (মুনাফার হার কিছুটা বেশি থাকে)। ধরি ব্যাংকে মুনাফার হার ১২% এবং মূল্যস্ফীতির পরিমান ৮%; তাহলে আমরা প্রকৃতপক্ষে বছর শেষে সঞ্চয়ের ওপর ৪% আয় করবো।

সঞ্চয়ের সাথেই আসে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত। আমার কাছে যদি কিছু টাকা থাকে তবে সেটা আমি বিনিয়োগ করতে পারি। বিনিয়োগের উদ্দেশ্য হল আয় বা লাভ করা এবং তার সাথে ঝুঁকি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যে বিনিয়োগে লাভের হার যত বেশি তাতে ঝুঁকির পরিমানও তত বেশি। আবার উল্টো করে বললে, আমি তখনই একটা ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগে যাব যখন তার লাভের পরিমানও সেরকম বেশি হবে। এখানে ঝুঁকিকে আমরা দুই ভাবে দেখতে পারি – প্রথমত: আয়ের ঝুঁকি; অর্থাৎ আমি আশা করছি ১০০ টাকা বিনিয়োগ করে আমি ২০ টাকা লাভ করবো, কিন্তু বাস্তবে আমার লাভ হল ১৫ টাকা। এক্ষেত্রে তাহলে ক্ষতিটা কি হল? ধরি আমার কাছে আরো একটি বিনিয়োগের সুযোগ ছিল যেখানে আমি ১৮ টাকা লাভ পেতে পারতাম। সুতরাং আমার ক্ষতি এখানে ৩ টাকা (১৫ – ১৮ = – ৩)। তবে এক্ষেত্রে আমার আয় কম হলেও সেটা কম ক্ষতিকর কেননা আমার মূলধন বা আসল অক্ষত আছে।

এবার আসি দ্বিতীয় ঝুঁকির প্রসংগে যাকে আমরা মূলধনের ঝুঁকি বলতে পারি। এ ধরণের ঝুঁকির ক্ষেত্রে আমরা লাভ তো পাবই না, বরঞ্চ আমাদের মূলধনই কমে যাবার বা একবারেই ফেরত না পাবার সম্ভাবনা থাকে। সচরাচর যেসব বিনিয়োগে অস্বাভাবিক বা অতিমুনাফার সম্ভাবনা থাকে সেগুলোতে মূলধনের ঝুঁকিও বেশি থাকে। আমাদের দেশে প্রায়ই দেখা যায় মানুষজন অতিমুনাফার আশায় (যেমন একবছরেই বিনিয়োগ দ্বিগুন হবে ইত্যাদি ইত্যাদি) ঝুঁকিপূর্ণ এবং অপ্রচলিত ও সরকারি অনুমোদনবিহীন বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করে সর্বস্বান্ত হয়। এধরণের ক্ষেত্রে একটু মনে রাখতে হবে যে, অতি মুনাফা মানেই অতিরিক্ত ঝুঁকি।

বিনিয়োগের ঝুঁকি কমানোর একটি প্রচলিত উপায় হচ্ছে একটি ক্ষেত্রে বিনিয়োগ না করে একাধিক ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করা; একে ফাইন্যান্সের ভাষায় বলে ‘ডাইভারসিফিকেশন’ (Diversification)। ব্যাপারটা এমন, আমার কাছে ১,০০০ টাকা আছে এবং সেটা আমি একটা ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করলাম। এখন যদি ওই ব্যবসা কোন কারণে মার খায়, তবে আমার পুরো বিনিয়োগই ক্ষতিগ্রস্থ হবে। তাই আমি পুরো ১,০০০ টাকা এক জায়গায় বিনিয়োগ না করে যদি দুটি ক্ষেত্রে ৫০০ টাকা – ৫০০ টাকা করে বিনিয়োগ করি, তবে তাতে ঝুঁকির পরিমান কিছুটা কমে যাবে। এর কারণ হল, দুটি ব্যবসাতেই একই সাথে লোকসান হবার সম্ভাবনা কম থাকবে। ঝুঁকি নিয়ে আরো বিস্তারিত আমরা পরের ক্লাসগুলোতে দেখবো।

ভবিষ্যৎ জীবনের চিন্তা – অবসর এবং তারপর:

প্রবাদে আছে, ভবিষ্যতের চিন্তা করাই জ্ঞানীর কাজ – আর সেটা যদি হয় আর্থিক ভবিষ্যতের ব্যাপার তবে তো কথাই নেই। আমরা শৈশবে কোন আয় করি না, তাই আমাদের কোন সঞ্চয়ও থাকে না। উল্টো আমাদের বাবা-মাকে আমাদের পেছনে খরচ করতে হয়, – অর্থাৎ আমাদের সঞ্চয় থাকে ঋণাত্মক। যৌবনে কর্মজীবনে প্রবেশের পর আমরা আয় করা শুরু করি এবং আমাদের আয় ক্রমে বৃদ্ধি পায়। ফলে সঞ্চয়ের ক্ষমতাও একইভাবে বাড়তে থাকে। আবার বৃদ্ধ বয়সে গিয়ে কাজ থেকে অবসর নেবার পর আমাদের আয় কমে যায় বা একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। অথচ বৃদ্ধ বয়সে নানা শারীরিক জটিলতায় খরচ বৃদ্ধি পায়। ফলে সঞ্চয় আবার ঋণাত্মক বা নেগেটিভ হয় (মানে সঞ্চয় বৃদ্ধি তো পায়ই না বরং জমানো টাকা খরচ হতে থাকে)। তাই অবসর জীবনকে সচ্ছল রাখতে আমাদের অবসর জীবনের জন্য আর্থিক পরিকল্পনা নেয়াটা জরুরী। রিটায়ারমেন্টের জন্য আমাদের দেশে এতদিন প্রভিডেন্ট ফান্ডই ছিল আর্থিক সুরক্ষার একমাত্র প্রতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা। এছাড়া ব্যক্তিপর্যায়ে সবাই সনাতন জনপ্রিয় ব্যবস্থাগুলো গ্রহন করতেন, যেমন: কোন স্থাবর সম্পদে বিনিয়োগ করা (যেমন বাড়ি করা বা দোকান কেনা) যা থেকে স্থায়ীভাবে আয় পাওয়া যাবে, কারও ব্যবসায়ে টাকা খাটানো, সরকারি সঞ্চয়পত্র কেনা বা FDR করা ইত্যাদি। তবে বর্তমানে উন্নত বিশ্বের মতো আমাদের দেশেও এখন বিভিন্ন আর্থিক ও বীমা প্রতিষ্ঠান নানা ধরণের পেনশন প্ল্যান চালু করেছে তবে এদের প্রচলন এখনো তুলনামূলক কম। ভবিষ্যত আর্থিক সুরক্ষার জন্য তাই আমাদের যার যার প্রযোজন ও সক্ষমতা অনুযায়ী রিটায়ারমেন্ট প্লান নিতে হবে। এক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয় হল যে ক্ষেত্রে রিটায়ারমেন্টের জন্য বিনিয়োগ করবো তার রিটার্ন বা আয়ের হার কেমন, ঝুঁকির পরিমান কি, কত বছরের জন্য প্লান করবো ইত্যাদি। তবে যেহেতু অবসর জীবনের বিষয়, তাই এক্ষেত্রে বিনিয়োগে ঝুঁকি পরিমান বেশি হওয়া ঠিক নয়।

 

মোটামুটিভাবে এই হল ব্যক্তিগত জীবনে ফাইন্যান্সের ব্যবহারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক। যেহেতু এই কোর্সের উদ্দেশ্য ফাইন্যান্স সম্পর্কে সবাইকে প্রাথমিক ধারণা দেয়া এবং কোর্সটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তৈরি, তাই ইচ্ছা করেই ব্যক্তিগত ফাইন্যান্স/অর্থায়ন অংশটি একটু বড় করলাম। তারপরও আরও অনেক কিছুই আমরা পরের ক্লাস গুলোতে জানবো আশা রাখি। যেমন ব্যবসায়িক ও সরকারি পর্যায়ে ফাইন্যান্স বা অর্থায়নের ব্যবহার আমরা পরের ক্লাসে আলাপ করবো। এছাড়া অনেকে অনুরোধ করেছেন কোর্সের ভিডিও টিউটোরিয়াল আপলোড করতে – সেটা হয়তো এ সপ্তাহেই তা করতে পারবো। সবার প্রতি অনেক শুভকামনা রইলো সাথে থাকবার জন্য। সবাইকে ধন্যবাদ।

কুইজ:

ফাইন্যান্স ১০১ - অর্থবিজ্ঞান পরিচিতি কোর্সের কুইজ-২

ফাইন্যান্স ১০১ - অর্থবিজ্ঞান পরিচিতি কোর্সের দ্বিতীয় কুইজে অংশ নিতে আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি। ইমেইলের মাধ্যমে আপনাকে কুইজের ফলাফল এবং সঠিক উত্তরগুলো জানিয়ে দেয়া হবে। তাই অনুগ্রহ করে দেখে নিন আপনার ইমেইল ঠিকানাটি সঠিক কিনা।
* Required
    This is a required question
    This is a required question
    This is a required question
    This is a required question
    This is a required question
    This is a required question
    This is a required question
    Never submit passwords through Google Forms.

Comments

comments

About the author

Ali Haidar Khan (Tonmoy)

আমি আলী হায়দার খান; জন্ম ও বেড়ে ওঠা ইটকাঠ - জনস্রোতের ঢাকায়। ঢাকার বিভিন্ন স্কুলে পড়াশোন শেষে এসএসসি দিয়েছি লালমাটিয়া বয়েজ স্কুল থেকে আর এইচএসসি নটর ডেম কলেজ থেকে। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগ থেকে ব্যবসা প্রশাসনে (BBA) স্নাতক সম্পন্ন করেছি । বর্তমানে বেশ কিছুদিন যাবৎ একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছি এবং সেই সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা প্রশাসন ইন্সটিটিউট - IBA তে MBA করছি । মুক্তজ্ঞানের সাথে আমার সখ্য ২০০৪ সাল থেকে, যখন আমি প্রথম উইকিপিডিয়ার সাথে পরিচিত হই এবং এরই ধারাবাহিকতায় একসময় উইকিপিডিয়ার অবদানকারী হয়ে উঠি। আমি উইকিমিডিয়া বাংলাদেশ চ্যাপ্টার এর একজন প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রেজারার। উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশনের সাথেও এখন সম্পৃক্ত আছি । প্রকৃতি আমার কাছে অতি প্রিয়, বিশেষ করে পাহাড় আর বনজঙ্গলে ঘুরে বেড়াতে খুবই ভাল লাগে । তাই আমি সময়-সুযোগ পেলেই হুটহাট বেড়িয়ে পড়ি।

Leave a Reply