«

»

নভে. 29

দাবা খেলা পরিচিতি – লেকচার ১ – সাধারণ নিয়মাবলীঃ বোর্ড ও ঘুটি পরিচিতি

[কোর্সের মূল পাতা | নিবন্ধনের লিংক]

আশাকরি প্রায় সবাই খেলার প্রাথমিক নিয়ম কানুন জানেন। তাই এই অংশে আমি সবকিছু খুব সংক্ষেপে লিখব।

লেকচার ভিডিও

 

 

ইউটিউব ভিডিওর লিংক

বিকল্প লিংক – lecture1.1.rulesofchess from Pingo Penguin on Vimeo.

কীভাবে বোর্ড বসাবেনঃ

দাবা খেলার জন্য দুজন খেলোয়াড় দরকার। খেলার জন্য একটা বোর্ড ব্যবহার করা হয়। বোর্ডটি আকৃতিতে বর্গাকার, উপর নিচ এবং পাশাপাশি – দু দিকেই ৮ টি করে চৌকো ঘর থাকে; মোট ৮ ঘরের সংখ্যা ৮*৮ = ৬৪ টা। এর অর্ধেক, অর্থাৎ ৩২ টি সাদা ঘর, বা হালকা রঙের ঘর [light squares] এবং বাকি অর্ধেক ৩২ টি কালো ঘর বা ভারী/গাঢ় রঙের ঘর [dark squares]। অনেক সময় কালো সাদা রঙ এর বদলে অন্য কোনো রঙ ব্যবহার করা হয়। সম্পূর্ণ বোর্ড টি দেখতে নিচের মতো। খেলার সময় বোর্ড এমন ভাবে পাতা হয় যাতে সব সময় ডান দিকের নিচের ঘরটি সাদা রঙের ঘর [light square] হয়।

বোর্ডে ঘর চিহ্নিতকরণঃ

বোর্ড এর প্রত্যেক ঘর কে সহজে চিহ্নিত করার জন্য প্রত্যেক টা ঘরের নামকরণ করা হয় নিচের ছবির মতো। পাশাপাশি ইংরিজি A থেকে H পর্যন্ত এবং নিচ থেকে উপর ১,২,৩ এরকম করে ৮ পর্যন্ত।

 

এইভাবে প্রত্যেকটা ঘরের একটা করে আলাদা নামকরণ করা হয়। নিচের ছবিতে A1, C7, E4, G6 ইত্যাদি ঘর উদাহরণ দিয়ে দেখানো হয়েছে।

ফাইল, র‍্যাঙ্ক ও ডায়াগোনালঃ

উপর নিচ একটা ঘরের সারি কে দাবার ভাষায় ফাইল [file] এবং পাশাপাশি একটা ঘরের সারি কে র‍্যাঙ্ক [rank] বলে। নিচের ছবিতে D-ফাইল এবং পঞ্চম র‍্যাঙ্ক [fifth rank] দেখানো হয়েছে।

দাবার বোর্ডে কোনাকুনি একই লাইনে থাকা ঘরগুলিকে ইংরিজিতে diagonal বলে। যেমন a3-h6 একটা diagonal  এর উদাহরণ।  a8-h1 এবং a1-h8 diagonal বোর্ডের ডায়াগোনাল গুলোর মধ্যে সবচেয়ে লম্বা, তাই এদেরকে লং ডায়াগোনাল বলা হয়।


তাহলে আমরা দাবার বোর্ড বসানো এবং ঘর চিহ্নিত করার পদ্ধতি শিখলাম। এই পদ্ধতিকে দাবার ভাষায় algebric notation বলে। পরে আমরা algebric notation সম্বন্ধে বিস্তারিত শিখবো। এখন আমরা দাবার ঘুটি চিনবো।

ঘুটি পরিচিতিঃ

সবাই খেলতে জানেন ধরে নিয়ে এই সেকশন টাও আগের মতো খুব সংক্ষেপে লিখব। দাবায় মোট ৬ রকমের ঘুটি থাকে

রাজা – king (K),

মন্ত্রী – Queen (Q),

হাতি বা গজ – Bishop (B),

ঘোড়া – knight (N), 

নৌকা – rook (R),

বোড়ে বা সৈন্য  – pawn

 

ব্রাকেটে ঘুটিগুলোকে ইংরিজি তে সংক্ষেপে লেখার পদ্ধতি দেখানো হয়েছে। রাজা কে K লিখে বোঝানো হয়, এবং রাজা আর ঘোড়া কে আলাদা করার জন্য ঘোড়াকে N লেখা হয়। বোড়ে কে p লেখা যেতে পারে, তবে বোড়ে বোঝাতে সাধারণতঃ কিছু লেখা হয় না। 


এবার আমরা বোর্ডে ঘুটি সাজানো শিখবো। দাবা দুই পক্ষের মধ্যে খেলা হয়। একপক্ষের সাদা ঘুটি এবং অন্যপক্ষের কালো ঘুটি। ঘুটিসমেত সম্পুর্ণ বোর্ড দেখতে নিচের মতো হয়। বোর্ডের উপর ও নিচের প্রান্তে মধ্যভাগের দুটো ঘরে রাজা ও মন্ত্রী বসানো হয়, তারপর দুপাশে গজ, তার দুপাশে ঘোড়া ও একদম প্রান্তে নৌকা বসে। উপর ও নীচ প্রান্ত থেকে দ্বিতীয় সারিতে সাদার ও কালোর [দ্বিতীয় ও সপ্তম র‍্যাঙ্ক] প্রত্যেকের জন্য ৮ টি করে বোড়ে বসানো হয়। খেয়াল করুন, সাদার মন্ত্রী সাদা ঘরে এবং কালোর মন্ত্রী কালো ঘরে বসানো হয়েছে।



 

বোর্ডকে মাঝামাঝি উপর নিচ দুভাগে ভাগ করলে ছবির ডান দিকে রাজা এবং বামদিনে মন্ত্রী আছে। রাজার দিক কে দাবার ভাষায় kingside বা রাজার দিক এবং মন্ত্রীর দিক কে queenside বা মন্ত্রীর দিক বলে। দ্বিতীয় এবং সপ্তম সারি তে ৮ টি করে বোড়ে থাকে। প্রতিপক্ষের ঘুটি সংখ্যা ১৬ টি, দুইপক্ষ মিলিয়ে মোট ঘুটি সংখ্যা ৩২ টি, মোট ঘর সংখ্যার অর্ধেক।

 

বিভিন্ন ঘুটির চাল শিখুনঃ

খেলার সময় বোর্ডে ঘুটিগুলি কিছু নিয়ম মেনা চলাফেরা করে।প্রত্যেকের চলার ধরণ বাকি ঘুটির থেকে আলাদা। তাই এবার আমরা প্রত্যেকটা ঘুটির চাল এক এক করে শিখবো।

নৌকার চালঃ

সবার প্রথমে আমরা শিখব নৌকার চাল। নৌকা ফাইল বা রাঙ্ক বরাবর সোজা যাতায়াত করে, রেললাইন এর মতো, সামনে বাধা না থাকলে নৌকা যতদূর খুশি যেতে পারে। নিচের ছবি তে নৌকার চাল দেখানো হয়েছে।

গজ বা হাতির চালঃ

এরপর আমরা শিখব গজ বা হাতির চাল। হাতি কোনাকুনি চলে, ইংরিজি X অক্ষরের মতো। খেয়াল করুন, সাদা রঙের ঘরের হাতি কখনও কালো রং এর ঘরে যেতে পারে না, এবং কালো রঙের হাতি কখনও সাদা রঙ এর ঘরে যেতে পারে না। তাই একটা হাতি দিয়ে সারা বোর্ডের অর্ধেক ঘরে মাত্র যাওয়া যায়। পুরো বোর্ড কভার করতে জোড়া হাতি (bishop pair) দরকার হয়। জোড়া হাতি বলতে একটা সাদা ঘরের হাতি ও একটা কালো ঘরের হাতি বোঝানো হয়।

মন্ত্রীর চালঃ

মন্ত্রী সোজাসুজি বা কোনাকুনি, দু রকম ভাবেই চলতে পারে। বা অন্যভাবে বললে, নৌকা এবং হাতি – এই দু’জনের চাল মেশালে মন্ত্রীর চাল পাওয়া যাবে। নিচের ছবিতে মন্ত্রীর সম্ভাব্য চাল দেখানো হলো। সবদিকে যাওয়ার ক্ষমতা থাকার জন্য মন্ত্রী প্রচন্ড শক্তিশালী। মন্ত্রী আসলে বোর্ডের সবচেয়ে শক্তিশালী (powerful) ঘুটি।

রাজার চালঃ 

রাজা মন্ত্রীর মতোই যে কোনো দিকে যেতে পারে, তবে মন্ত্রীর মতো অনেকদূর অবধি যেতে পারে না। রাজা যে কোনো দিকে মাত্র একঘর যেতে পারে। আমরা পরে শিখব রাজা কে বন্দি করা সম্ভব হলে খেলা সমাপ্ত হয়। তাই রাজা কে সবচেয়ে মূল্যবান (valuable) ঘুটি বলা চলে।

ঘোড়ার চালঃ

আমরা চাল শেখার শেষ ধাপে এসে গেছি। এবার আমরা ঘোড়ার চাল শিখব। ঘোড়া যে কোন দিকে দুঘর সোজা গিয়ে একঘর পাশে গিয়ে শেষ করে। ঘোড়ার চাল কে অনেকে আড়াই চাল বা ইংরিজি L এর মতো চাল বলে। নিচের ছবিতে একটা অবস্থান থেকে ঘোড়ার সম্ভাব্য চালগুলো দেখানো হলো। ঘোড়া একমাত্র ঘুটি যে অনান্য ঘুটির উপর দিয়ে লাফিয়ে নিজের গন্তব্যস্থানে পৌছে যেতে পারে।

বোড়ের চালঃ 

বোড়ে শুরুর ঘর থেকে একঘর বা দুইঘর সোজা সামনের দিকে যেতে পারে, কিন্তু একবার শুরুর ঘর থেকে এগিয়ে যাওয়ার পর মাত্র একঘর যেতে পারে। সামনে কোনও বাধা [নিজের বা অপরের ঘুটি] থাকলে বোড়ে আর এগোতে পারে না। বোড়ে পিছনে বা পাশে যেতে পারে না। বোড়ে সামনের দিকে কোনাকুনি খেতে পারে। বোড়ের চাল খুব মন দিয়ে পড়ুন, কারন ঠিকমতো মনোযোগ না দিলে শুরুর দিকে বোড়ের চাল শেখা বেশ কঠিন মনে হয়। নিচে বোড়ের চাল ছবিসমেত ব্যখ্যা করা হলো।


pawn moves

উপরের ছবিতে B2 ঘরের বোড়ে শুরুর অবস্থানে আছে। তাই বোড়ে টি এক চালে B2 থেকে B3 বা B4 জেতে পারে। F4 ঘরের বোড়ে এক চালে শুধুমাত্র f5 জেতে পারে, f6 যেতে পারে না। কারন f4 বোড়েটির শুরুর অবস্থান নয়। f3 ঘরের বোড়েটি আপাতত কোথাও যেতে পারবে না, কারন f4 ঘরটি আপাতত অন্য একজন [নিজের বোড়ে] এর দখলে আছে। এক ই রকম কারনে h6 বোড়ে চলতে পারবে না, কারন h7 ঘরটি অন্য একজন এর [অপর এর বোড়ে] দখলে আছে। d5 ঘরের বোড়ে সোজা d6 ঘরে যেতে পারে, অথবা c6 বা e6 ঘরের অন্যের ঘুটি খেয়ে নিতে (capture) পারে।


তাহলে আমরা সমস্ত ঘুটির চাল শেখা শেষ করলাম। এর পরের লেখায় আমরা দাবার আরো কিছু নিয়ম শিখবো। লেখাটি কেমন লাগলো জানাবেন।

Comments

comments

About the author

রাজীব মন্ডল

আমি একজন রসায়নের গ্রাজুয়েট স্টুডেন্ট, কলকাতার প্রেসিডেন্সী কলেজ থেকে স্নাতক ও কানপুর আই আই টি থেকে স্নাতকোত্তর পাঠক্রম শেষ করার পর বর্তমানে মার্কিন মুলুকে জৈব রসায়ন নিয়ে গবেষণারত। দাবা নিয়ে উৎসাহী। উতসাহবশত অনেক পড়াশুনা করেছি। স্কুল কলেজ জীবনে এক আধটা টুর্নামেন্ট খেলেছি, তবে সেগুলোকে খুব সিরিয়াস টুর্নামেন্ট বলে চলে না। তার বাইরে খেলা বলতে ইন্টারনেটে নিয়মিত খেলি এবং তার বাইরে চর্চা ও করি। তবে ইন্টারনেটের বাইরে খুব একটা খেলিনা, বা কোনো খেতাব নেই। পুরোটাই স্ব-শিক্ষা, কোনোদিন অন্য কারো কাছ থেকে তালিম নিইনি, তবে খেলা শেখার পথে বহু লোকের লেখা পড়েছি, যাদের কে আমার শিক্ষক বলা চলে, কারন তাদের ছাড়া খেলা শেখা আমার পক্ষে সম্ভবপর হতো না।

Leave a Reply